Ads by tnews247.com
বিশ্বনবী (সা.)'র দেখানো সৌভাগ্যের সিঁড়ি (দশম পর্ব )

বিশ্বনবী (সা.)'র দেখানো সৌভাগ্যের সিঁড়ি (দশম পর্ব )

Mon July 14, 2014     

বিশ্বনবী (সা.)'র আরো অমূল্য বাণী ও সংক্ষিপ্ত উপদেশ:

মহানবী (সা.) বলেছেন : উপদেশ গ্রহণের জন্য মৃত্যুই যথেষ্ট আর অমুখাপেক্ষিতার জন্য খোদাভীতি বা পরহেজগারিতাই যথেষ্ট। আর কর্মব্যস্ততার জন্য ইবাদতই যথেষ্ট। আর কিয়ামতই একমাত্র ভবিষ্যৎ আর আল্লাহ্ই একমাত্র প্রতিদান দাতা।

তিনি আরো বলেছেন, দু’টি কাজের চেয়ে উত্তম কোনো পুণ্যের কাজ নেই : আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং আল্লাহর বান্দাদের উপকার করা। আর দু’টি কাজের চেয়ে জঘন্য কোনো কাজ নেই : আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা আর আল্লাহর বান্দাদের ক্ষতি করা।

এক ব্যক্তি বিশ্বনবী (সা.)-কে বলল : আমাকে কিছু উপদেশ দিন যার মাধ্যমে আল্লাহ্ আমার মঙ্গল করবেন। তখন হুজুর (সা.) বললেন : বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করো, তা তোমাকে দুনিয়া (প্রেম) থেকে মুক্ত করবে। (আল্লাহর প্রতি) কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো, কারণ, তা নেয়ামতকে বাড়িয়ে দেয়। বেশি বেশি দোয়া করো, কেননা তুমি জান না কখন তোমার দোয়া গ্রহণ করা হবে। সীমালঙ্ঘন করো না। কারণ, আল্লাহ্ এরূপ নির্ধারণ করেছেন যে, যার সীমা লঙ্ঘিত হয় আল্লাহ্ অবশ্যই তার সহায় হন। (মহান আল্লাহ) ইরশাদ করেন,

হে লোকেরা! তোমাদের সীমা লঙ্ঘনের ক্ষতি তোমাদের ওপরই বর্তাবে। (ইউনুস:২৩) আর যেন প্রতারণা করো না। কারণ, আল্লাহ্ এরূপ নির্ধারণ করেছেন যে, ‘মন্দ প্রতারণা কেবল তার কর্তাকেই পরিবেষ্টন করে থাকে।’ (ফাতির:৪৩)


মহানবী (সা.) আরো বলেছেন : শিগগিরই তোমরা শাসন ক্ষমতার প্রতি লালায়িত হবে। তখন তোমাদের পরিণাম হবে আফসোস আর অনুতাপ।

তিনি আরো বলেন : সেই জাতি কখনো সফল হবে না যারা তাদের সামাজিক নেতৃত্বভার নারীর হাতে ন্যস্ত করে।

হুজুর (সা.)-এর কাছে আরজ করা হলো : কোন্ সঙ্গীরা উত্তম? তিনি বললেন : যখন তুমি তাকে স্মরণ করবে, সে তখন তোমাকে সাহায্য করবে; আর যখন ভুলে যাবে সে তখন তোমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। আরো বলা হলো : নিকৃষ্টতম লোক কারা? বললেন : জ্ঞানী লোকেরা যখন নষ্ট হয়ে যায়।

 

মহানবী আরো বলেন, আমার প্রতিপালক আমাকে নয়টি বিষয়ের উপদেশ দিয়েছেন : প্রকাশ্য ও গোপনে নিষ্ঠা অবলম্বন করা, সন্তুষ্টি আর ক্রোধের অবস্থায় ন্যায়পরায়ণ থাকা, অভাব ও প্রাচুর্যের সময় মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, আর যে আমার প্রতি অত্যাচার করে তাকে যেন ক্ষমা করি, আর আমার প্রতি যে কৃপণতা করে তাকে প্রদান করা, আর যে আমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে তার সাথে যেন সম্পর্ক গড়ি, আর আমার নীরবতা যেন হয় চিন্তা-গবেষণা, আর আমার কথা যেন হয় যিকির আর আমার তাকানো যেন হয় শিক্ষা গ্রহণ।

 

বিশ্বনবী (সা.) বলেন : জ্ঞানকে লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে বেঁধে ফেল।

তিনি আরো বলেন : যখন কোনো জাতির দুর্বৃত্তরা তাদের নেতা হয়, তাদের নিকৃষ্টরা হয় কর্ণধার আর দুষ্কৃতকারীদেরকে সম্মান করা হয়, তা হলে যেন তারা বিপদের অপেক্ষায় থাকে।

 

মহানবী (সা.) বলেন, অন্যদিকে যখন তোমাদের নেতারা হয় তোমাদের উত্তম লোকেরা, আর তোমাদের সামর্থ্যবানরা হয় তোমাদের দানশীল লোকেরা, আর তোমাদের কাজকর্ম হয় তোমাদের সবার পরামর্শ অনুযায়ী তা হলে তোমাদের জন্য মাটির উপরিভাগই মাটির ভেতরের চেয়ে উত্তম হবে। আর যখন তোমাদের নেতারা হয় তোমাদের নিকৃষ্টরা, আর তোমাদের সামর্থ্যবানরা হয় তোমাদের কৃপণরা, আর তোমাদের কাজকর্ম ন্যস্ত হয় তোমাদের নারীদের ওপর তখন তোমাদের জন্য মাটির ওপরের চেয়ে নিচে থাকাই শ্রেয়।

 

তিনি আরো বলেন : দ্রুত বেগে হাঁটা মুমিনের মূল্য কমিয়ে দেয়। মহানবী (সা.) বলেন : যার (মাল) চুরি হয় সে সবসময় নিরপরাধ লোকদেরকে দোষারোপ করতে থাকে। ফলে তার অপরাধ চোরের চেয়েও বড় হয়ে যায়।


তিনি আরো বলেন : আল্লাহ্ তাকে ভালোবাসেন যে, তাঁর অধিকার আদায় করার ক্ষেত্রে উদারতা প্রদর্শন করে।

 মহানবী (সা.) বলেন : যে ব্যক্তির সকাল ও সন্ধ্যা অতিবাহিত হয় এ অবস্থায় যে, তার তিনটি জিনিস থাকে, তবে তার ওপর দুনিয়ার নেয়ামত পরিপূর্ণ হয়ে যায়। যার সকাল ও সন্ধ্যা অতিবাহিত হয় সুস্থ অবস্থায়, তার মনে প্রশান্তি থাকে আর তার কাছে একদিনের জীবিকা থাকে। আর যদি চতুর্থ বস্তুটিও যদি তার থাকে তা হলে তার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল নেয়ামত পূর্ণ হয়। আর সেটা হলো ঈমান।

 

তিনি আরো বলেন : দয়া করো সেই সম্মানিতের ওপর যে লাঞ্ছিত হয়েছে, আর সেই ধনীর ওপর যে নিঃস্ব হয়েছে আর ঐ জ্ঞানীর ওপর যে মূর্খদের কবলে পড়েছে।

আল্লাহর শেষ নবী আরো বলেন : দুটি ব্যাপারে অসংখ্য মানুষ ধোঁকা খেয়ে থাকে, সুস্থতা আর অবসর। (অর্থাৎ এগুলোর সদ্ব্যবহার করে না।)

তিনি আরো বলেন : অন্তরগুলো ঐসব লোকের বন্ধুত্বে বাধা পড়ে যারা তাদের প্রতি সদাচার করেছে আর ঐসব লোকের শত্রু হয় যারা তাদের প্রতি অনিষ্ট করেছে।

 হুজুর (সা.) বলেন : নবীদেরকে মানুষের সাথে তাদের বিবেক-বুদ্ধি অনুপাতে কথা বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন : সেই ব্যক্তি অভিশপ্ত যে নিজের রুজির ভার অন্যের ওপর ন্যস্ত করেছে।

তিনি বলেন : ইবাদতের সাতটি অঙ্গ। তন্মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো হালাল রুজি অর্জন করা।

মহানবী (সা.) আরো বলেন : নিশ্চয় আল্লাহ্ জোরজবরদস্তি করে আনুগত্য গ্রহণ করেন না আবার কারো অবাধ্যতার মাধ্যমে তিনি পরাস্তও হন না। বান্দাদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা থেকে তিনি হাত গুটিয়ে নেন নি। অথচ তিনি যেসব জিনিসের ওপরে তাদেরকে ক্ষমতাশীল করেছেন সেসবের ওপর পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী। আর তিনিই হলেন সব রাজত্বের মালিক যা তাদেরকে দান করেছেন। সত্যিই যদি সব বান্দা খোদার আনুগত্যে অবিরত লিপ্ত থাকে, তা হলেও কোনো অন্তরায় ও প্রতিবন্ধক নেই। আবার যদি তারা আল্লাহর অবাধ্যতার কাজ করে তবে তিনি চাইলে তাদের এবং তারা যা করে তার মাঝে প্রতিবন্ধক হতে পারেন।

মহানবীর পুত্র ইবরাহীম যখন মৃত্যুবরণ করছিল (তখন তিনি বলেন) : যা অতীত হয়েছে তা যদি (আল্লাহর কাছে) প্রেরিত সঞ্চিত বস্তু না হতো আর শেষও প্রথমের সাথেই সংযুক্ত (সকলকেই মৃত্যুর পরিণতি বরণ করতে) না হতো, তা হলে আমরা তোমার ওপর তীব্রভাবে শোকাহত হতাম হে ইবরাহীম। এরপর তাঁর চক্ষু অশ্রুসিক্ত হলো এবং তিনি বললেন, চক্ষু অশ্রু ঝরায়, আর অন্তর শোকার্ত হয়। আর আমরা শুধু সেটাই বলি যা আল্লাহর পছন্দনীয়। আর সত্যই হে ইবরাহীম! আমরা তোমার জন্য শোকাহত।

(চলবে...)







Facebook এ আমরা

আরও খবর


দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন ১৯.

 

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয় রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মাস মাহে রমজান। এ মাসে সকল নেক কাজে অধিক সওয়াব লাভ করা যায়। এবাদতের পাশাপাশি দান-সদকা করলে তার সওয়াবও অনেক বেশি। রমজান মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও করণীয় হলো এই দান-সদকা।

 

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে মাহে রমজান দয়া ও করুণার মাস। দয়া ও রহমত হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। স্বয়ং রাব্বুল আলামিন মানুষকে রহম করেন এই মাসে। তিনি যাকে ইচ্ছা তার অন্তরে এই রহমত দান করেন। তা

 

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। মোমিন মুসলমানদের জন্য এ মাসটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত রহমতুল্লিল আলামিন হজরত মোহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর নবু

 

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে মোমিনের জন্য মাহে রমজান আল্লাহর তাআলার পক্ষ থেকে অশেষ রহমত স্বরূপ। রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি বান্দা যত বেশি ইবাদত করবে তত বেশি সওয়াব পাবে। তাই আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত পেতে আমাদের বেশি বেশি ইবাদত ক

 

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ১৬তম রোজা পালন করবেন সোমবার। এই দিনের রোজা রাখতে সাহরি খেতে হবে রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩৮মিনিটের পূর্বে।

 

কুরান তেলাওয়াত


অন্যান্য

দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয়

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

রমজান ধৈর্য ও সংযমের মাস

তওবা-এস্তেগফারের মাস মাহে রমজান

চলতি বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা, এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮০ টাকা

জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৬৫, সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা

রমজানে ওমরা করলে হজ করার সওয়াব!

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

স্রষ্টার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে

সম্মান দেখানোর জন্য কী বসা থেকে উঠে দাঁড়ানো ইসলামে জায়েজ ?

রমজান সম্পর্কে কিছু কথা আপনি যানেন কী?

রমজানে তারাবির নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

সকল জেলার প্রথম রোজার সেহরীর সময়

সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে

আদৌ পনেরো শাবানের রাত্রির কোনো ফজিলত বা বিশেষত্ব আছে কি?

প্রতিবন্ধীদের জন্য মসজিদ, রয়েছে খুৎবা শোনার ব্যবস্থা

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft