Ads by tnews247.com
যে ভাষণ শুনে ইসলাম গ্রহণ করেন সম্রাট নাজ্জাশি

যে ভাষণ শুনে ইসলাম গ্রহণ করেন সম্রাট নাজ্জাশি

Thu August 14, 2014     

সে হলো মদিনায় হিজরতের আগের কথা। মক্কার অবিশ্বাসীরা মুসলমানদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। এ নির্যাতন থেকে আত্মরক্ষার জন্য প্রেক্ষাপটে মুসলমানদের একটি দল মক্কা থেকে হাফসায় হিজরত করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জাফর ইবনে আবু তালেব ও তার পরিবার। তিনি ছিলেন সেই দলটির নেতা। হাফসার শাসনকর্তা নাজ্জাশি ছিলেন সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও মানবতাবাদী শাসক। তারা এ মহাজয়ের দলটিকে আশ্রয় দিল। কাজেই সেখানে তারা জীবনযাপনের নিরাপত্তা পেলেন।

তাদের এ গোপন হিজরতের কথা মক্কাবাসীর অজানা রইল না। তারা বিষয়টি জেনে গেল। তারা আমর ইবনে আস এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি আবিয়া নামক দুজনকে হাফসায় পাঠায়। উদ্দেশ্য নাজ্জাশির আশ্রয় থেকে মুসলিম দলটিকে ফিরিয়ে আনা এবং মক্কায় এনে শায়েস্তা করা।

তাদের ফিরিয়ে আনার কৌশল হিসেবে মক্কাবাসী নাজ্জাশির জন্য মূল্যবান উপঢৌকন পাঠাল। আর বিশেষ করে তাদের কাজের সহযোগিতার জন্য নাজ্জাশির দরবারের পাদ্রিদের জন্যও মূল্যবান উপঢৌকন পাঠানো হলো।

এ দুই ব্যক্তি নাজ্জাশির দরবারে গিয়ে বলল, আপনাদের এখানে আমাদের দেশ থেকে কয়েকটি খারাপ লোক এসে আশ্রয় নিয়েছে। তারা আমাদের ধর্মের বিরোধিতা করছে। নতুন অভিনব ধর্ম আবিষ্কার করছে। তারা নানা ধরনের খারাপ কাজে লিপ্ত ছিল। আর এখন আত্মরক্ষার জন্য আপনার এখানে আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের সমাজ আপনার কাছে পাঠিয়েছে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য। আপনি তাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন_ এটাই আমাদের কামনা।

তাদের এ কথা শুনে নাজ্জাশি তার দরবারে উপস্থিত পাদ্রীদের দিকে তাকালেন। তারা উপঢৌকন পেয়ে আগে থেকেই তাদের সাহায্য করার জন্য কথা দিয়েছে। কাজেই তারা তাদের কথায় সায় দিল এবং বলল, জাহাপনা তারা সত্য কথা বলেছেন। এরা মন্দ লোক, বিধর্মী। শাস্তি থেকে আত্মরক্ষার জন্য এখানে তারা আত্মগোপন করেছে। কাজেই তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেয়া উচিত।

পাদ্রিদের এ কথায় নাজ্জাশি খুশি হতে পারলেন না। তিনি ন্যায়বিচারক ছিলেন। এক পক্ষের কথা শুনে ন্যায় বিচার করা যায় না। তিনি বললেন, যাদের সম্পর্কে এখানে কুৎসা রটনা করা হলো আর যাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হলো তাদের সঙ্গে কথা না বলে এবং তাদের বক্তব্য না শুনে আমি একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।

সুতরাং তাদের দরবারে ডাকা হলো। যখন তাদের দরবারে আমন্ত্রণ জানানো হলো তখন সেই মুসলিম দলের লোকেরা একসঙ্গে বসে পরামর্শের পর সিদ্ধান্ত হলো সেখানে শুধু জাফর ইবনে আবু তালেব কথা বলবেন। তাকে ছাড়া আর কেউ কথা বলবে না। নাজ্জাশি মুসলমানদের তাদের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য বললেন। বিশেষ করে তিনি বললেন, তারা যেন তাদের নতুন ধর্মের বিষয়ে বলেন।

তখন মুসলমানদের পক্ষে জাফর ইবনে আবু তালেব দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, হে সম্ভ্রান্ত বাদশাহ, আমরা আগে একটা মূর্তিপূজক জাতি ছিলাম। নিজ হাতে মূর্তি বানিয়ে তার উপাসনা করতাম। মৃত জন্তু খেতাম। অশ্লীল কাজ করতাম। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতাম এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতাম না। আমাদের মধ্যে যারা সবল তারা দুর্বলের ওপর নির্যাতন করত। তাদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করত। এটাই ছিল আমাদের সামাজিক অবস্থা। অবশেষে আল্লাহ আমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন। আমরা তার বংশ, সততা, আমানতদারি ও পবিত্রতা সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবহিত। তিনি কখনও মিথ্যা কথা বলেন না। তিনি আমাদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দিলেন। যেন আমরা একমাত্র আল্লাহকে বিশ্বাস করি। তাঁর ইবাদত করি। আমরা যেন নিজ হাতে মূর্তি বানিয়ে তার উপাসনা না করি। আমরা যেন সত্য কথা বলি। আমরা যেন আমানতের খেয়ানত না করি। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন না করি। প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করি। অশ্লীল ও হারাম কাজ না করি। অবৈধ রক্তপাত থেকে বিরত থাকি। এতিম ও দুর্বলের অধিকার নষ্ট না করি। সৎ ও নিষ্কলুষ নারী চরিত্রের প্রতি অপবাদ না দিই। সুতরাং আমরা তার ওপর ঈমান এনেছি। তিনি যে ভালো কাজগুলোর কথা বলেন, তা আমরা গ্রহণ করেছি। যে অন্যায় কাজ থেকে বারণ করেন আমরা তা থেকে বিরত থাকি। কিন্তু এর কারণে আমরা আমাদের সমাজের তরফ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তারা আমাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালায়, যেন আমরা আগের পথে ফিরে যাই। আমরা আগের মন্দবিশ্বাস ও পাপাচারে ফিরে যেতে চাই না। কাজেই আমরা আপনার এখানে আশ্রয় গ্রহণ করেছি এ আশায় যে, আমরা আপনার এখানে নির্যাতিত হব না। অত্যাচারিত হব না এবং আমরা স্বাধীনভাবে সুপথে চলতে পারব।

ঈসা (আ.) সম্পর্কে মুসলমানদের ধারণা ও বিশ্বাস আপত্তিকর, এজন্য পরের দিন নাজ্জাশি আবার উভয় দলকে ডাকলেন। প্রথমে তিনি মক্কা থেকে আগত দূতদের কথা শুনলেন। এরপর মুসলমানদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ঈসা (আ.) সম্পর্কে কী ধারণা রাখ? জাফর ইবনে আবু তালেব জবাবে বললেন, ঈসা (আ.) হলেন আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তিনি তাঁর রুহ ও কালাম, যা তিনি কুমারী ও পবিত্র মরিয়মের প্রতি নিক্ষেপ করেছেন। তখন নাজ্জাশি বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, ঈসা (আ.) সম্পর্কে তোমাদের নবী যা বলেছেন তাই ঠিক। তাই সত্য। এ কথা বলে তিনি মক্কা থেকে আগত দূতদের আশ্রয় দিয়েছেন। এখন তারা এখানে নিরাপদ।

হাফসায় নাজ্জাশির দরবারে জাফর ইবনে আবু তালেবের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তার যুক্তি দিয়ে ইসলামের সত্যতা ও সৌন্দর্যকে নাজ্জাশির সামনে তুলে ধরতে পেরেছেন। নাজ্জাশি তাতে মুগ্ধ হয়। তিনি তাদের সেখানে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দেন। শুধু তাই নয়, জাফরের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো এই যে, নাজ্জাশি তার হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন।







Facebook এ আমরা

আরও খবর


দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন ১৯.

 

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয় রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মাস মাহে রমজান। এ মাসে সকল নেক কাজে অধিক সওয়াব লাভ করা যায়। এবাদতের পাশাপাশি দান-সদকা করলে তার সওয়াবও অনেক বেশি। রমজান মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও করণীয় হলো এই দান-সদকা।

 

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে মাহে রমজান দয়া ও করুণার মাস। দয়া ও রহমত হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। স্বয়ং রাব্বুল আলামিন মানুষকে রহম করেন এই মাসে। তিনি যাকে ইচ্ছা তার অন্তরে এই রহমত দান করেন। তা

 

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। মোমিন মুসলমানদের জন্য এ মাসটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত রহমতুল্লিল আলামিন হজরত মোহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর নবু

 

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে মোমিনের জন্য মাহে রমজান আল্লাহর তাআলার পক্ষ থেকে অশেষ রহমত স্বরূপ। রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি বান্দা যত বেশি ইবাদত করবে তত বেশি সওয়াব পাবে। তাই আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত পেতে আমাদের বেশি বেশি ইবাদত ক

 

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ১৬তম রোজা পালন করবেন সোমবার। এই দিনের রোজা রাখতে সাহরি খেতে হবে রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩৮মিনিটের পূর্বে।

 

কুরান তেলাওয়াত


অন্যান্য

দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয়

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

রমজান ধৈর্য ও সংযমের মাস

তওবা-এস্তেগফারের মাস মাহে রমজান

চলতি বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা, এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮০ টাকা

জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৬৫, সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা

রমজানে ওমরা করলে হজ করার সওয়াব!

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

স্রষ্টার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে

সম্মান দেখানোর জন্য কী বসা থেকে উঠে দাঁড়ানো ইসলামে জায়েজ ?

রমজান সম্পর্কে কিছু কথা আপনি যানেন কী?

রমজানে তারাবির নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

সকল জেলার প্রথম রোজার সেহরীর সময়

সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে

আদৌ পনেরো শাবানের রাত্রির কোনো ফজিলত বা বিশেষত্ব আছে কি?

প্রতিবন্ধীদের জন্য মসজিদ, রয়েছে খুৎবা শোনার ব্যবস্থা

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft