Ads by tnews247.com
মহিলাদের মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়ার বিধান

মহিলাদের মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়ার বিধান

Mon September 29, 2014     

জামাতে নামাজ আদায় করার গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। আল্লাহ বলেন, তোমরা রুকু কারীদের সঙ্গে রুকু আদায় কর। এখানে ‘রুকুকারীদের সঙ্গে’ বলতে নামাজ জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ হুকুমটি কোন ধরণের? এ ব্যাপারে সাহাবী, তাবেয়ীন ও ফুকাহাদের মধ্যে একদল জামাত ওয়াজিব বলেছেন এবং পরিত্যাগ করাকে কঠিন পাপ বলে অভিহিত করেছেন। অধিকাংশ সাহাবী, তাবেয়ীন, ওলামা ও ফকীহদের মতে জামাত হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। কিন্তু ফজরের সুন্নতের ন্যায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। ওয়াজিবের একেবারে নিকটবর্তী। (তাফসীরে মারেফুল কুরআন)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন- রসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে হেদায়েতের উত্তম পথগুলো শিক্ষা দিয়েছেন। আর হেদায়েতের অন্যতম পথ হলো, যে মসজিদে আজান দেয়া হয় সে মসজিদে নামাজ আদায় করা।

তোমরা (পুরুষরা) যদি তোমাদের গৃহে নামাজ আদায় কর যেমন পশ্চাতে অবস্থানকারী মুনাফিকরা গৃহে নামাজ আদায় করে, তাহলে নি:সন্দেহে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নতকে ছেড়ে দিলে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নতকে ছেড়ে দাও তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম)।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর বর্ণিত হাদীস থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক পুরুষদের জন্য হেদায়েতের উত্তম পথ হলো মসজিদে নামাজ আদায় করা, যা ছেড়ে দেওয়া স্পষ্ট গুমরাহী। অপরদিকে রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক মহিলাদের জন্য উত্তম পথ হলো নিজ গৃহে নামাজ আদায় করা, যা ছেড়ে দেওয়া স্পষ্ট গুমরাহী । আর তা ছেড়ে দেওয়ার কারণে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছেন । (মাযমাউয যাওয়ায়েদ)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, অন্ধ এক লোক নবী (সা.) এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল আমাকে ধরে মসজিদে নিয়ে আসার মত কেউ নেই। তাকে বাড়ীতে নামাজ পড়ার অনুমতি প্রদান করার জন্য সে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে আবেদন জানালো। রাসুল তাকে বাড়ীতে নামাজ পড়ার অনুমতি দিলেন। কিন্তু লোকটা যে সময় ফিরে যেতে উদ্যত হলো তখন নবী (সা). তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি নামাযের আজান শুনতে পাও ? সে বলল হ্যাঁ। নবী (সা.) বললেন, তাহলে তুমি মসজিদে আসবে। (সহীহ মুসলিম)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ওই মহান সত্ত¡ার কসম যার হাতে আমার জীবন ! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দেই। তারপর নামাজ কায়েমের নির্দেশ দেই, এরপর আযান দেওয়া হোক, তারপর এক ব্যক্তিকে লোকদের ইমামতি করার নির্দেশ দিয়ে আমি পুরুষলোকদের কাছে যাই এবং তাদের (যারা জামাতে শামিল হয় নাই ) ঘর জ্বালিয়ে দেই। (সহীহ বুখারী)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যদি ঘরসমূহে মহিলা ও বাচ্চারা না থাকত তাহলে আমি এশার নামাজের জামাত কায়েম করতাম এবং যুবকদের আদেশ করতাম যেন তারা (যারা জামাতে শামিল হয়নি তাদের ) ঘরসমূহে যা কিছু আছে সবসহ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। (ফাতহুল বারী, মুসনাদে আহমাদ)

এ হাদীস থেকে সকলেই বুঝতে পারবে যে, রসুলুল্লাহ (সা.) আগুন জ্বালিয়ে শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন শুধুমাত্র ঐ সকল পুরুষদের জন্যই, যারা এশার জামাতে উপস্থিত হত না।


কিন্তু মহিলা ও বাচ্চারা ঘরে থাকার কারণে তা বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত থেকেছেন। হাদীসটিতে মহিলার কথা উল্লেখ করায় একথার প্রমাণ করে যে, তারা জামাতে উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে আদিষ্ট নয়, জামাতে উপস্থিত হওয়ার কোন গুরুত্বও নেই এবং মহিলা সাহাবীরা ঘরে নামাজ আদায় করতেন। সাধারণত: জামাতে উপস্থিত হতেন না।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মহিলাদের অন্দর মহলের নামাজ বাইরের ঘরের নামাজ থেকে উত্তম এবং অন্দর মহলের ভিতরের গোপন বা নির্জন ঘরের নামাজ অন্দর মহলের নামাজ থেকে উত্তম। (সুনানে আবু দাউদ)

আবু হুমাইদ সায়িদী (রা.) এর স্ত্রী উম্মে হুমাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেছেন, অবশ্যই আমি জানি যে, তুমি আমার সাথে নামায পড়তে পছন্দ কর। অথচ তোমার অন্দর মহলের নামায ঘরের নামাযের চাইতে উত্তম। বাইরের ঘরের নামায আঙ্গিনার নামাযের চাইতে উত্তম। আঙ্গিনার নামায মহল্লার মসজিদের নামাজের চাইতে উত্তম। মহল্লার মসজিদের নামাজ আমার মসজিদের নামাজের চাইতে উত্তম। (সহীহ ইবনে খুযাইমা)

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, মহিলাদের আপাদমস্তক পর্দায় থাকার বস্তু। যখনই সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তার প্রতি কুদৃষ্টি দিতে থাকে। নি:সন্দেহে তখন সে আল্লাহর নিকটবর্তী থাকে যখন সে নিজের অন্দর মহলে ইবাদত করে। (আল মু’জামুল কাবীর)

হযরত আয়েশা রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি রসুল (সা.) জানতেন মহিলারা কি অবস্থা সৃষ্টি করেছে তাহলে অবশ্যই তাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করে দিতেন, যেমন বনী ইসরাঈলের মহিলাদের নিষেধ করা হয়েছিল । (সহীহ বুখারী)

হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, বনী ইসরাঈলের মহিলারা কাঠের পা বানিয়ে নিয়েছিল যাতে তার উপর দাঁড়িয়ে উঁচু হয়ে পুরুষদের দিকে উঁকি মারতে পারে। ফলে আল্লাহ মসজিদে যাওয়া তাদের জন্য হারাম করে দিলেন। (ফাতহুল বারী শরহে বুখারী)

ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি হওয়ার কারণে আল্লাহ বনী ঈসরাইলের মহিলাদের মসজিদে যাওয়া হারাম করে দিয়েছিলেন তাহলে ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি হওয়ার কারণে এ উম্মতের মহিলাদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এ বিধানের ভিত্তিতেই মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম হয়ে যাবে। ফিৎনা-ফাসাদের কারনে মহিলাদের মসজিদে যাওয়া হারাম আল্লাহ তায়ালার বিধান। আর রাসুল (সা.) তার ইন্তেকালের পর এ উম্মতের পুরুষদের জন্য মহিলাদেরকে সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর ফিৎনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। (মেশকাত শরীফ)

উমর (রা.) মহিলাদের মসজিদে যাওয়াকে অপছন্দ ও মাকরুহ মনে করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, উমর (রা.)এর এক স্ত্রী (আতেকা বিন যায়েদ) ফজর ও এশার নামাযের জামাতের জন্য মসজিদে যেতেন। তাকে বলা হল আপনি কেন নামাজের জন্য বের হন ? অথচ আপনি জানেন যে, হযরত উমর (রা.) মসজিদে যাওয়াকে অপছন্দ ও আত্মমর্যাদাবোধ পরিপন্থি মনে করেন। (সহীহ বুখারী)

ইসলাম নারী সমাজের অধিকার ও মান-মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। তাদের মান-সম্মান ও সতীত্বকে সংরক্ষণ করার জন্য গৃহে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে। বিনা প্রয়োজনে গৃহ থেকে বের হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, হে নারী সমাজ তোমরা তোমাদের গৃহে অবস্থান কর। জাহেলী যুগের নারীদের মত বেহায়া হয়ে বের হয়ো না। (সূরা আহযাব)

মহিলাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত ও ঈদের জামাতে উপস্থিত হওয়া, ওয়াজিব, সুন্নত কোনটিই নয়। জামাতে উপস্থিত হওয়ার কোন গুরুত্বও ইসলামে নেই। মহিলাদের মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করা ও উৎসাহ দেওয়া স্পষ্ট গুমরাহী ও সরাসরি হাদীসের বিরুদ্ধাচারণ। আল্লাহ সকল প্রকার ফেৎনা থেকে মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করুন।







Facebook এ আমরা

আরও খবর


দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন ১৯.

 

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয় রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মাস মাহে রমজান। এ মাসে সকল নেক কাজে অধিক সওয়াব লাভ করা যায়। এবাদতের পাশাপাশি দান-সদকা করলে তার সওয়াবও অনেক বেশি। রমজান মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও করণীয় হলো এই দান-সদকা।

 

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে মাহে রমজান দয়া ও করুণার মাস। দয়া ও রহমত হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ। স্বয়ং রাব্বুল আলামিন মানুষকে রহম করেন এই মাসে। তিনি যাকে ইচ্ছা তার অন্তরে এই রহমত দান করেন। তা

 

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। মোমিন মুসলমানদের জন্য এ মাসটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত রহমতুল্লিল আলামিন হজরত মোহাম্মদ মুস্তাফা (সা.)-এর নবু

 

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে মোমিনের জন্য মাহে রমজান আল্লাহর তাআলার পক্ষ থেকে অশেষ রহমত স্বরূপ। রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি বান্দা যত বেশি ইবাদত করবে তত বেশি সওয়াব পাবে। তাই আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত পেতে আমাদের বেশি বেশি ইবাদত ক

 

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ১৬তম রোজা পালন করবেন সোমবার। এই দিনের রোজা রাখতে সাহরি খেতে হবে রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩৮মিনিটের পূর্বে।

 

কুরান তেলাওয়াত


অন্যান্য

দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয়

রোজাদারকে দয়া ও রহমতের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে

বদরের যুদ্ধ ও সুমহান শিক্ষা

ইবাদত করতে হবে এখলাসের সঙ্গে

১৬তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

রমজান ধৈর্য ও সংযমের মাস

তওবা-এস্তেগফারের মাস মাহে রমজান

চলতি বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা, এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮০ টাকা

জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৬৫, সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা

রমজানে ওমরা করলে হজ করার সওয়াব!

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

স্রষ্টার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে

সম্মান দেখানোর জন্য কী বসা থেকে উঠে দাঁড়ানো ইসলামে জায়েজ ?

রমজান সম্পর্কে কিছু কথা আপনি যানেন কী?

রমজানে তারাবির নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া

সকল জেলার প্রথম রোজার সেহরীর সময়

সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে

আদৌ পনেরো শাবানের রাত্রির কোনো ফজিলত বা বিশেষত্ব আছে কি?

প্রতিবন্ধীদের জন্য মসজিদ, রয়েছে খুৎবা শোনার ব্যবস্থা

সম্পাদক: মেহারাব খান মুন
৩৮ গরিব এ-নেওয়াজ এভিনিউ, উত্তরা, ঢাকা ১২৩০. ইমেইল: info@tnews247.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত tnews247.com ২০১৪
Hosted & Developed by N. I. Biz Soft